
একজন সম্ভাব্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে জেডি ভ্যান্স বর্তমানে এক অনিশ্চিত ও চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতির সম্মুখীন। গত এক সপ্তাহে তার রাজনৈতিক জীবন তিনটি ভিন্ন দিক থেকে ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যে রয়েছে—যার কোনটিই তিনি নিজের ইচ্ছায় তৈরি করেননি এবং প্রতিটি ক্ষেত্রেই তার জয়ের সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। ইরানের সঙ্গে ব্যর্থ কূটনৈতিক আলোচনা, হাঙ্গেরির নির্বাচনে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি, এবং পোপের সঙ্গে অপ্রত্যাশিত বিতর্ক—এই সব মিলিয়ে ভ্যান্স এখন সমালোচনার তীরে বিদ্ধ। আর এই সংঘাতের পেছনে রয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, যার জন্য লড়াই করতে গিয়ে ভ্যান্স নিজেকে আজ অস্তিত্বের সংকটে দেখতে পাচ্ছেন।
ভ্যান্সের প্রধান সমস্যা হল তার নিঃশর্ত আনুগত্য। ট্রাম্পের ছায়ায় কাজ করতে গিয়ে তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা দ্রুত কমছে। জনমত জরিপের ফলাফল নির্দেশ করছে যে তিনি ক্রমাগত পিছিয়ে পড়ছেন, এবং ‘মাগা’ (MAGA) ঘরানার ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের দৌড়ে তার অবস্থান দুর্বল। ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকালে দেখা যায়, ট্রাম্পের সঙ্গে আনুগত্যের সম্পর্ক সবসময়ই একমুখী। সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের অবস্থা তার বড় একটি উদাহরণ। প্রয়োজনে ট্রাম্প তার ঘনিষ্ঠতম সহযোগীকেও বলির পাঁঠা বানাতে দ্বিধা করেন না—এখন ভ্যান্সের সামনে এই কঠোর বাস্তবতা স্পষ্ট।
জেডি ভ্যান্সের রাজনৈতিক চরিত্রে বারবার অবস্থান পরিবর্তনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
অতীত বনাম বর্তমান: একসময় ট্রাম্পকে ‘আমেরিকার হিটলার’ আখ্যা দেওয়া ভ্যান্স এখন হয়ে উঠেছেন তার কট্টর সমর্থক।
পররাষ্ট্রনীতি: সামরিক হস্তক্ষেপের তীব্র বিরোধী ভ্যান্স এখন ইরান, সিরিয়া ও ভেনেজুয়েলায় সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
ধর্মীয় অবস্থান: ক্যাথলিক ধর্ম গ্রহণ করার পরেও পোপের মতামতের প্রতি তার উদ্ধত আচরণ ধর্মীয় ভোটারদের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি করেছে।
তবে ট্রাম্প ভ্যান্সকে সহজে বরখাস্ত করতে পারবেন না, কারণ তিনি একজন নির্বাচিত ভাইস প্রেসিডেন্ট। মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী অনুসারে, প্রেসিডেন্ট যদি দায়িত্ব পালনে অক্ষম হন, তবে ভ্যান্স নিজে ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে সরানোর প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় ভূমিকা নিতে পারেন। কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাটরা ইতিমধ্যেই এমন একটি কমিশন গঠনের ইঙ্গিত দিয়েছেন, যেখানে ভ্যান্সের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ভ্যান্স এখন বড় সিদ্ধান্তের সামনে দাঁড়িয়ে। তিনি কি ট্রাম্পের প্রতিটি ভুলের দায় নিতে রাজি হবেন, যা তাকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করে দিতে পারে? অথবা তিনি কি নিজের ভবিষ্যত সুরক্ষিত করার জন্য রোমান ইতিহাসের ‘ব্রুটাসে’র মতো বিদ্রোহের পথে যাত্রা করবেন? ভ্যান্সের রাজনৈতিক টিকে থাকার সম্ভাবনা এখন অনেকটা নির্ভর করছে এই ‘লয়ালটি টেস্ট’ বা আনুগত্যের পরীক্ষার ওপর।
সাইমন টিসডালের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ভ্যান্স কি ক্লডিয়াসের মতো ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করবেন, নাকি নিজের রাজনৈতিক সত্তা রক্ষা করতে বিদ্রোহের ঝাণ্ডা তুলবেন—এখন সেটিই দেখার বিষয়।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।